ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঈদের আগে দ্রব্যমূল্যের নিম্নগতি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫ ১৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিশেষ করে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানের জিনিসপত্রের দাম নিম্নমুখী, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে স্বস্তি এনে দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মতিঝিল এজিবি কলোনি কাঁচা বাজার, খিলগাঁও বৌবাজার ও শান্তিনগর বাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজার ঘুরে প্রতিনিধি দেখতে পেয়েছেন, ক্রেতারা সাধারণত তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী যা প্রয়োজন, তা কিনতে পারছেন।

বউবাজারে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. করিম বাসস’কে জানান, তিনি ঈদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এখানে এসেছেন। তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সন্তোষজনক। মো. করিম আরো বলেন, আমি সবসময় আমার বাড়ির কাছে খিলগাঁও বৌবাজারে কেনাকাটা করি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কম থাকায় এখানকার সকলেই স্বস্তি বোধ করছেন।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কঠোর বাজার তদারকি ও পদক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালের রমজানের তুলনায় চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ, শসা, আলু, টমেটো, ডিম, রসুন, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, আদা ও সেমাইসহ বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দা সামসুল হুদা বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম স্বস্তিদায়ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ বছরের রমজানে সবজির কম দাম সকল আয়ের ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এ বছর মাছ, মাংস ও মুরগিরও দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনকালে দেখা গেছে যে, বয়লার মুরগি প্রতি কেজি যথাক্রমে ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালী ২৮০-২৯০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় ১০-৩০ টাকা কম। খাসির মাংস প্রতি কেজি প্রায় ১১০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০-৫০ টাকা কম। স্থানীয় রুই মাছ (দেড় থেকে দুই কেজি জীবিত) ৩০০-৪৫০ টাকায় ও আমদানি করা রুই (২ থেকে ৩ কেজি) ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে রমজান আসার সাথে সাথে মাছের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনি প্রতি কেজি এ বছর ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ১৪০-১৫০ টাকা ছিল। সাধারণ খেজুরের দাম ২২০-২৫০ টাকা থেকে কমে ১৮০-২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি ও প্রিমিয়াম মানের খেজুর যথাক্রমে ৪৫০-৮০০টাকা ও ১,০০০-১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- গত বছরের তুলনায় ৩০-২০০ টাকা কম।

দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত বছর দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ছিল ২৫-৩৫ টাকা। এছাড়াও, শীতকালীন সবজির দাম গত রমজানের তুলনায় কেজি প্রতি ৫-২০ টাকা কমেছে।মতিঝিল এজিবি কলোনির কাঁচা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক বলেন, সরকারের তদারকির ফলে আগের বছরের তুলনায় এ বছর দাম কম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈদের আগে দ্রব্যমূল্যের নিম্নগতি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে

আপডেট সময় : ১২:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

রাজধানীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিশেষ করে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানের জিনিসপত্রের দাম নিম্নমুখী, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে স্বস্তি এনে দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মতিঝিল এজিবি কলোনি কাঁচা বাজার, খিলগাঁও বৌবাজার ও শান্তিনগর বাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজার ঘুরে প্রতিনিধি দেখতে পেয়েছেন, ক্রেতারা সাধারণত তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী যা প্রয়োজন, তা কিনতে পারছেন।

বউবাজারে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. করিম বাসস’কে জানান, তিনি ঈদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এখানে এসেছেন। তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সন্তোষজনক। মো. করিম আরো বলেন, আমি সবসময় আমার বাড়ির কাছে খিলগাঁও বৌবাজারে কেনাকাটা করি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কম থাকায় এখানকার সকলেই স্বস্তি বোধ করছেন।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কঠোর বাজার তদারকি ও পদক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালের রমজানের তুলনায় চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ, শসা, আলু, টমেটো, ডিম, রসুন, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, আদা ও সেমাইসহ বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দা সামসুল হুদা বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম স্বস্তিদায়ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ বছরের রমজানে সবজির কম দাম সকল আয়ের ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এ বছর মাছ, মাংস ও মুরগিরও দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনকালে দেখা গেছে যে, বয়লার মুরগি প্রতি কেজি যথাক্রমে ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালী ২৮০-২৯০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় ১০-৩০ টাকা কম। খাসির মাংস প্রতি কেজি প্রায় ১১০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০-৫০ টাকা কম। স্থানীয় রুই মাছ (দেড় থেকে দুই কেজি জীবিত) ৩০০-৪৫০ টাকায় ও আমদানি করা রুই (২ থেকে ৩ কেজি) ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে রমজান আসার সাথে সাথে মাছের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনি প্রতি কেজি এ বছর ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ১৪০-১৫০ টাকা ছিল। সাধারণ খেজুরের দাম ২২০-২৫০ টাকা থেকে কমে ১৮০-২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি ও প্রিমিয়াম মানের খেজুর যথাক্রমে ৪৫০-৮০০টাকা ও ১,০০০-১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- গত বছরের তুলনায় ৩০-২০০ টাকা কম।

দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত বছর দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ছিল ২৫-৩৫ টাকা। এছাড়াও, শীতকালীন সবজির দাম গত রমজানের তুলনায় কেজি প্রতি ৫-২০ টাকা কমেছে।মতিঝিল এজিবি কলোনির কাঁচা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক বলেন, সরকারের তদারকির ফলে আগের বছরের তুলনায় এ বছর দাম কম।