ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গাজাবাসীকে রাফাহর একাংশ খালি করার নির্দেশ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫ ১৩ বার পড়া হয়েছে

গাজা উপত্যকাজুড়ে হামাসের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। রোববার তারা ফিলিস্তিনিদের গাজার রাফাহ শহরের একাংশ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সংগঠনটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আদরাই বলেছেন, সেনাবাহিনী রাফাহর তাল আল-সুলতান অঞ্চলে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর’ বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে।

তিনি ফিলিস্তিনিদের ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ ছেড়ে আরো উত্তরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এএফপির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, তাল আল-সুলতান জেলায় ড্রোন থেকে একই বার্তা সম্বলিত লিফলেট ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। রোববার হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকার আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুর ওপর ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সালাহ আল-বারদাউইল ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

হামাসের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব বারদাউইল সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরো ও ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন। রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা গাজা উপত্যকার উত্তরে বেইত হানুনেও অভিযান পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অভিযানের সময় যুদ্ধবিমান হামাসের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি হামাসের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করে ইসরাইল।

১ মার্চ যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হয়। নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় না গিয়ে, ইসরাইল হামাসকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত মঙ্গলবার গাজায় ব্যাপক বোমা হামলা চালায় ও গাজার স্থলভাগে সেনা মোতায়েন শুরু করে। পুনরায় হামলার আগে মার্চের শুরুতে, ইসরাইল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সাহায্য প্রবেশে বাধা দেয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ করে দেয়, যাতে হামাস যুদ্ধবিরতি বাড়াতে ইসরাইলের শর্ত মেনে নেয় এবং তাদের কাছে জিম্মি ৫৮ জন ইসরাইলি নাগরিককে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

ইসরাইলের সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ গাজার প্রধান পানি বিশুদ্ধকরণ (নির্লবণীকরণ) কেন্দ্রে সরবরাহ করা হত। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে গাজার ২৪ লাখ মানুষের ভয়াবহ পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলেছে। মিশরের সীমান্তে অবস্থিত গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরটি প্রায় এক বছর আগে ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাজাবাসীকে রাফাহর একাংশ খালি করার নির্দেশ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

গাজা উপত্যকাজুড়ে হামাসের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। রোববার তারা ফিলিস্তিনিদের গাজার রাফাহ শহরের একাংশ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সংগঠনটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আদরাই বলেছেন, সেনাবাহিনী রাফাহর তাল আল-সুলতান অঞ্চলে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর’ বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে।

তিনি ফিলিস্তিনিদের ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ ছেড়ে আরো উত্তরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এএফপির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, তাল আল-সুলতান জেলায় ড্রোন থেকে একই বার্তা সম্বলিত লিফলেট ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। রোববার হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকার আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুর ওপর ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সালাহ আল-বারদাউইল ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

হামাসের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব বারদাউইল সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরো ও ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন। রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা গাজা উপত্যকার উত্তরে বেইত হানুনেও অভিযান পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অভিযানের সময় যুদ্ধবিমান হামাসের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি হামাসের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করে ইসরাইল।

১ মার্চ যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হয়। নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় না গিয়ে, ইসরাইল হামাসকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত মঙ্গলবার গাজায় ব্যাপক বোমা হামলা চালায় ও গাজার স্থলভাগে সেনা মোতায়েন শুরু করে। পুনরায় হামলার আগে মার্চের শুরুতে, ইসরাইল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সাহায্য প্রবেশে বাধা দেয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ করে দেয়, যাতে হামাস যুদ্ধবিরতি বাড়াতে ইসরাইলের শর্ত মেনে নেয় এবং তাদের কাছে জিম্মি ৫৮ জন ইসরাইলি নাগরিককে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

ইসরাইলের সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ গাজার প্রধান পানি বিশুদ্ধকরণ (নির্লবণীকরণ) কেন্দ্রে সরবরাহ করা হত। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে গাজার ২৪ লাখ মানুষের ভয়াবহ পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলেছে। মিশরের সীমান্তে অবস্থিত গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরটি প্রায় এক বছর আগে ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।