মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শেষ হচ্ছে আগামীকাল

- আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৯ বার পড়া হয়েছে

মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শেষ হচ্ছে আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। আগামীকাল অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।অমর একুশে বইমেলায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৫’-এর সদস্য-সচিব ড. সরকার আমিন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো: মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪, চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।আজ বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা এর ২৭-তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৭৬টি।
এরমধ্যে গল্পগ্রন্থ ২৩টি, উপন্যাস ২৬টি, প্রবন্ধের বই ৭টি, কবিতার বই ৬৩টি, গবেষণা গ্রন্থ ৩টি, ছড়ার বই ২টি, শিশুসাহিত্য ৬টি, জীবনী গ্রন্থ ২টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান বিষয়ক বই ২টি, ভ্রমণ বিষয়ক বই ২টি, ইতিহাস গ্রন্থ ২টি, রাজনীতি বিষয়ক বই ২টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য বিষয়ক বই ৩টি, ভাষা বিষয়ক বই ১টি, গণ অভ্যুত্থান বিষয়ক বই ২টি, ধর্মীয় বই ২টি, অনুবাদ গ্রন্থ ৩টি, সায়েন্স ও অন্যান্য বিষয়ক বই ২৩টি।এদিকে, বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘একটি অভ্যুত্থানের জন্ম ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম রনি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ নিজার।
সভাপতিত্ব করেন কাজী মারুফ। প্রাবন্ধিক বলেন, ইতিহাসে অনেক আন্দোলনকেই খুব গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তেমনি আমাদের দেশের সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গোটা জাতির জন্য নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। একটি প্রজন্মের ঐতিহাসিক কর্তা সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের অভ্যুত্থান ছিল এটা। অত্যাচার, লুটপাট ও অনাচার সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ তৈরি করে আসছিল। যার ফলে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন পরিণত হয় রাজনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে।
নাগরিক অধিকার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই আন্দোলনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আর কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই।আলোচক বলেন, স্বতঃস্ফূর্ততা ও কাঠামোগত দিক থেকে মিল থাকলেও অভ্যুত্থানের প্রথাগত ধারণার সঙ্গে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ভিন্নতাও রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমাদের বেঁচে থাকার ও মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে প্রতিনিয়তই। এ কারণে নাগরিক অধিকার ভিত্তিক বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এই অভ্যুত্থানের একটি দার্শনিক ভিত্তি দাঁড় করাতে হবে। রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কী হবে তা নতুনভাবে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান।
সভাপতির বক্তৃতায় কাজী মারুফ বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের একটি বহুত্ববাদী রূপ রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ভিন্ন আকাঙ্ক্ষা, ভিন্ন স্বপ্ন নিয়ে এই অভ্যুত্থানে শামিল হয়েছিলেন। ফলে মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে চব্বিশের আন্দোলন নিজেই একটি আলাদা সত্তা হয়ে উঠেছে। লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন- কবি সায়ীদ আবু বকর, কবি মিতা আলী এবং কবি, সম্পাদক ও শিশুসাহিত্যিক জামসেদ ওয়াজেদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মনজুর রহমান, রফিক হাসান, জান্নাতুল ফেরদৌসী, শোয়াইব আহমদ, ফেরদৌস আরা রুমী, নাইমা হোসেন, ড. নাইমা খানম, এনামুল হক জুয়েল এবং আমিরুল মুমিনিন মানিক।
আজ ছিল মিজানুর রহমানের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘লেমন নৃত্যকলা একাডেমি’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ছন্দা চক্রবর্তী, ইমরান খন্দকার, নাসরিন বেগম, আফসানা রুনা, মো. আনিসুজ্জামান, সুষ্মিতা সেন চৌধুরী, আফরিদা জাহিন জয়িতা, শাহীন আলম, ডলি মণ্ডল, শফি উদ্দিন এবং দিতি সরকার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন শিমুল বড়ুয়া (তবলা), রাজিব আহমেদ (কী-বোর্ড), মো. মেজবাহ উদ্দিন (অক্টোপ্যাড), সাইদ হাসান ফারুকী (লিড গীটার) এবং পল্লব দাস (বেইজ গীটার)।